কুড়িগ্রামে শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপনে প্রস্তুতি সভা
ধরলা পোস্ট |
প্রতিবেদক:
DharlaPost
প্রকাশিত: ৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ
ধরলা পোস্ট প্রতিবেদক:
কুড়িগ্রামে সুশৃঙ্খল, শান্তিপূর্ণ ও আনন্দমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের লক্ষ্যে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জানানো হয়, এ বছর কুড়িগ্রাম জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ৫৬৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ। সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজা কোনো নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির উৎসব। কুড়িগ্রামের চিরাচরিত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সে জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, প্রতিটি পূজামণ্ডপে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারি থাকবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম কাজ করবে। কোনো ধরনের গুজব বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড যাতে পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে, সে বিষয়ে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে।
সভায় বিশেষ বক্তব্য ও মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কুদরত-এ-খুদা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান, জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আজিজুর রহমান স্বপন, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু, এনএসআইয়ের উপপরিচালক আনিসুর রহমান এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজির হোসেন।
সাংবাদিকদের পক্ষে বক্তব্য দেন কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সফি খান, সিনিয়র সাংবাদিক আশরাফুল হক রুবেল ও আরিফুল ইসলাম রিগ্যান।
বক্তারা বলেন, ‘ধর্ম যার যার, উৎসব সবার’ এই চেতনায় বিশ্বাস করে কুড়িগ্রামের রাজনৈতিক, সামাজিক ও সর্বস্তরের মানুষ দুর্গাপূজা উদযাপনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ, পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।